বর্তমান সময়ে অনেক পুরুষই শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। এর প্রধান কারণ হলো অনিয়মিত জীবনযাপন, খারাপ খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ।
ভালো খবর হলো-কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি প্রাকৃতিকভাবেই এই সমস্যার উন্নতি করতে পারেন।
চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেই-
১. সঠিক খাবার-শুক্রাণু বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি
আমাদের শরীরের জন্য অনেক ধরনের প্রোটিন, ফ্যাট,কার্বোহাইড্রেড ইত্যাদি প্রয়োজন।এজন্য শরীরে ভালো মানের শুক্রাণু তৈরি করতে হলে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই।
যেসব খাবার অবশ্যই খাবেন
- ডিম - প্রোটিন ও ভিটামিন B12 সমৃদ্ধ
-
বাদাম (কাঠবাদাম, আখরোট) - ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে
-
কলা - হরমোন ব্যালান্সে সাহায্য করে
-
খেজুর ও কিসমিস - শক্তি ও রক্ত চলাচল বাড়ায়
-
সবুজ শাকসবজি - ফলিক অ্যাসিডে ভরপুর
নিয়মিত এই খাবারগুলো খেলে খুব তারাতারি কম শুক্রাণু এই সমস্যা থেকে দ্রুত সমাধান পাওয়া যেতে পারে।তাই নিয়মিত খাবারগুলো খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
২. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অণ্ডকোষে তাপমাত্রা বেশি হলে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়।বেশি তাপমাত্রা থেকে বাচার জন্য অনেক উপায় আছে নিচে কিছু উপায় বলা হলো
- ঢিলা ও সুতির আন্ডারওয়ার পরতে হবে
-
গরম পানি দিয়ে গোসল করা যাবে না
-
কোলে ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে
-
টাইট প্যান্ট পরা যাবে না
উপরের উপায় গুলো মেনে চলতে পারলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।মনে রাখবেন ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলোই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
৩. ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
শুক্রাণু বাড়ানোর জন্য ঘুমের কোন বিকল্পো নেই এছারাও হরমোন ঠিক রাখতে ঘুম ও মানসিক শান্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমের নিয়ম
- প্রতিদিন ৬–৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে
-
স্ট্রেস কমাতে হবে
-
রিল্যাক্সেশন (মেডিটেশন/বিশ্রাম) করতে হবে
ঘুম ঠিক না থাকলে শরীরের ভেতরের সবকিছুই ব্যালান্স হারায় এবং ঘুম ঠিক হলে যেমন সারাদিন কাজ করে শান্তি পাওয়া যায় তেমন ভালো ঘুমের পর সকালে উঠার পর শরীর অনেক শক্তিশালী এবং পাওয়ারফুল মনে হবে।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম
ঘুমের পাশাপাশি ব্যায়াম শরীর ও হরমোন দুটোই ঠিক রাখে।ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরে পেশী বড় হয় পেশী তে চাপ পরার কারনে এই সময় আমাদের শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমন উৎপাদন হয়।
উপকারী ব্যায়াম
- হালকা দৌড় বা হাঁটতে হবে নিয়মিত
-
ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে হবে
-
স্কোয়াট ও পুশ-আপ করতে হবে
অতিরিক্ত ব্যায়াম না করে ব্যালান্স বজায় রাখুন।আমরা জানি অতিরিক্ত কোন কিছুই সুফল বয়ে আনে না। আমরা ভাবতে পারি বেশি ব্যায়াম করলে বেশি টেস্টোস্টেরন হরমন উৎপাদন হবে তাহলে মনে হয় শুক্রাণু বারবে কিন্তু না এটি আমদের শরীরের ক্ষতি করবে।
৫. খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করুন
একটি কথা খারাপ অভ্যাস যতদিন জীবন থেকে সরাতে পারবেন না ততদিন আপনি আপনার জীবনে কোনো উন্নতি করতে পারবেন না।নিচে আমি এমন কিছু অভ্যাস এর কথা বলবো যা জীবন কে ধীরে ধীরে মরনের দিকে নিয়ে যায়।আর এই অভ্যাসগুলো সরাসরি শুক্রাণুর ক্ষতি করে।
- ধূমপান
-
অ্যালকোহল
-
অতিরিক্ত রাত জাগা
-
পর্ন আসক্তি
-
অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডায় থাকা
-
কেমিক্যাল পরিবেশে কাজ
উপরের অভ্যাস গুলো ছারতে পারলে আপনি ডিপ্রেশন থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন।আপনি কাজ করে শান্তি পাবেন।উপরের অভ্যাস গুলো শুক্রাণুর মান নষ্ট করে দেয় এবং এগুলো ধীরে ধীরে আপনার শুক্রাণুর ফার্টিলিটি কমিয়ে দেয়।
৬. শরীরকে বিশ্রাম দিন
বিশ্রাম এমন একটি প্রক্রিয়া যা আমদের শরীরকে কাজ করার জন্য শক্তি উৎপাদন করতে সহায়তা করে।এছারাও আপনি যখন শরীরকে বিশ্রাম দিবেন তখন শুক্রাণু বারাতেও সহায়তা করবে।বিশ্রাম শরীরের রিকভারির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- অতিরিক্ত কাজ করা যাবে না
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে
বিশ্রাম না পেলে শরীর ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না সারাদিন ক্লান্ত ক্লান্ত লাগে কোনো কাজ করে শান্তি পাওয়া যায় না।
পরিশেষে একটি কথা যা না বললেই নয়- শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা বাড়ানো কোনো একদিনের কাজ নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে আপনার জীবন-যাপনের ওপর নির্ভর করে।
সঠিক খাবার, ভালো ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং খারাপ অভ্যাস ত্যাগ--এই চারটি জিনিস মেনে চললেই আপনি ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।উপরের সবকিছু মেনে চলার পর যদি দেখেন কোনো পরিবর্তন হয় নি তাহলে আপনি আপনার পাসের হাসপাতালে গিয়ে ভালো অভিজ্ঞতা সম্পুন্ন কোনো ডাক্তার দেখাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শে সকল নিয়ম মেনে চললে খুব দ্রুত পরিবর্তন ও ভালো ফলাফল দেখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্।